শুক্রবার, ০২ অক্টোবর ২০২৬, ১১:৪২ অপরাহ্ন

সিইসি জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে দিল্লিতে বিক্ষোভ, এএপি নেতাসহ ৭০০ আটক

রিপোর্টার :

সংবাদটি শেয়ার করুন....

ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে আয়োজিত আন্দোলনকে কেন্দ্র করে রাজধানী দিল্লির যন্তর মন্তর ও এর সংলগ্ন এলাকা উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। অননুমোদিত জমায়েত ও বিক্ষোভের অভিযোগে আম আদমি পার্টির (এএপি) শীর্ষ নেতা ও বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনের সদস্যসহ ৭০০ জনেরও বেশি মানুষকে আটক করেছে দিল্লি পুলিশ।

শুক্রবার (২ অক্টোবর) যন্তর মন্তরে এই বৃহৎ বিক্ষোভ কর্মসূচির পরিকল্পনা করা হয়েছিল। তবে দিল্লি পুলিশ জানিয়েছে, এই কর্মসূচির জন্য কোনো ধরনের পূর্বানুমতি দেওয়া হয়নি। বিশৃঙ্খলা এড়াতে এবং অননুমোদিত জমায়েত রুখতে এলাকাটিতে কড়া নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি ১৪৪ ধারা বা নিষেধাজ্ঞামূলক আদেশ জারি করা হয়।

যেভাবে ছড়ালো উত্তেজনা

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, আন্দোলনকারীরা যেন যন্তর মন্তর এলাকায় প্রবেশ করতে না পারেন, সে জন্য সকাল থেকেই প্রধান প্রধান সড়কগুলোতে শক্তিশালী ব্যারিকেড গড়ে তোলা হয়। তবুও সকাল থেকে বিভিন্ন রাজনৈতিক ও ছাত্র সংগঠনের নেতাকর্মীরা মিছিল নিয়ে এগোনোর চেষ্টা করলে পুলিশি বাঁধার মুখে পড়েন। একপর্যায়ে পরিস্থিতি সামাল দিতে পুলিশ আন্দোলনকারীদের ব্যাপকভাবে আটক করা শুরু করে।

আটককৃত শীর্ষ ব্যক্তিত্ব ও সংগঠন

আটক ব্যক্তিদের তালিকায় ভারতের রাজনীতির পরিচিত একাধিক মুখ রয়েছেন:

  • এএপি নেতৃবৃন্দ: আম আদমি পার্টির প্রবীণ নেতা সৌরভ ভরদ্বাজ, সঞ্জীব ঝা, অতিশী এবং রাজ্যসভার প্রভাবশালী সাংসদ সঞ্জয় সিং।

  • ছাত্র সংগঠন: অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন (AISA), স্টুডেন্টস ফেডারেশন অব ইন্ডিয়া (SFI) এবং ন্যাশনাল স্টুডেন্টস ইউনিয়ন অব ইন্ডিয়ার (NSUI) বহু নেতাকর্মী।

কেন এই সিইসি পদত্যাগের দাবি?

মূলত ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (SIR) প্রক্রিয়ায় ব্যাপক কারচুপি এবং সাধারণ ভোটারদের নাম অন্যায়ভাবে বাদ দেওয়ার গুরুতর অভিযোগ এনেছে বিরোধী দল ও ছাত্র সংগঠনগুলো। এই প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তারা সরাসরি সিইসি জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ দাবি করছেন। (যদিও নির্বাচন কমিশন শুরু থেকেই এসব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে)।

নিরাপত্তা জোরদার ও প্রশাসনিক আইনি পদক্ষেপ

দিল্লি পুলিশের প্রশাসনিক নির্দেশনায় বলা হয়, ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতার ১৬৩ ধারার অধীনে পূর্বানুমতি ছাড়া যেকোনো ধরনের ৫ বা তার বেশি মানুষের জমায়েত, মিছিল, বিক্ষোভ বা ধর্না সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। এছাড়া প্রকাশ্যে উসকানিমূলক বক্তৃতা ও স্লোগান দেওয়ার ওপরও কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়।

বিক্ষোভের কারণে দিল্লির সাধারণ যাতায়াত ও যোগাযোগ ব্যবস্থায় এর প্রভাব পড়ে: ১. যন্তর মন্তরের চারপাশে ব্যাপক পুলিশ ও আধাসামরিক বাহিনী মোতায়েন করা হয়। ২. নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দিল্লি মেট্রোর বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ স্টেশনের প্রবেশ ও প্রস্থানের পথ সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়। ৩. যেকোনো ধরনের গুজব ও বিভ্রান্তি এড়াতে ঘটনাস্থল ও আশেপাশের এলাকায় সাময়িকভাবে ইন্টারনেট পরিষেবা স্থগিতের নির্দেশ দেয় প্রশাসন।


সংবাদটি শেয়ার করুন....



আমাদের ফেসবুক পেজ