রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬, ১১:৩৪ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
বরিশালের চৌমাথায় মহাসড়ক-ফুটপাত দখলমুক্ত করতে বিসিসির অভিযান বিশ্ববাজারে তেলের দাপট: ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০১ ডলার ছাড়াল বিলুপ্ত হচ্ছে পশ্চিমবঙ্গ মাদরাসা সার্ভিস কমিশন, শিক্ষক নিয়োগ যাবে এসএসসি-র অধীনে কক্সবাজারে ইজিবাইকের চাকায় ওড়না পেঁচিয়ে প্রাণ গেল তরুণী পর্যটকের ‘একটা ডিম ১৫ টাকা’—কোটি নিম্নবিত্তের কাছে আজ এক আতঙ্কের নাম: নাহিদ ইসলাম স্কোয়াড নিয়ে অসন্তোষ: পর্তুগাল ক্যাম্প ছেড়ে মাদ্রিদে রোনালদো, পিছু নিলেন কিট ম্যানেজারও! এলডিসি উত্তরণের পরও ৯২% পণ্যে শুল্কমুক্ত সুবিধা দেবে যুক্তরাজ্য: ব্রিটিশ হাইকমিশনার ২৩ নারীর সঙ্গে ‘নকল মেসির’ সম্পর্কের গল্প কি সত্যি বিএনপির সাথে চাঁদাবাজির ট্যাগিংয়ের চেষ্টা চলছে: তথ্য উপদেষ্টা অস্ট্রেলিয়া ও যুক্তরাষ্ট্র সফরে সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান

চাঁদাবাজি ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর তারেক রহমান: নিজ দলের এমপির পদত্যাগ

রিপোর্টার :

সংবাদটি শেয়ার করুন....

সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি কিংবা দুর্নীতি—অপরাধী নিজ দলের হলেও যে কোনো ছাড় নেই, তা কাজের মাধ্যমে প্রমাণ করলেন বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। নিজের দলের সংরক্ষিত নারী সংসদ সদস্যের বিরুদ্ধে ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ ওঠার পর তাৎক্ষণিকভাবে তাঁকে পদত্যাগের নির্দেশ দিয়ে রাজনীতিতে এক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন তিনি।

সম্প্রতি রাজধানীর মিরপুরের ‘রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি’ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলা, লুটপাট ও ভাঙচুরের ঘটনায় নাম আসে সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টির। বিষয়টি জানার পরপরই কঠোর অবস্থান নেন তারেক রহমান। বুধবার রাতে তিনি সংসদ সদস্য মিষ্টিকে পদত্যাগের নির্দেশ দেন এবং দ্রুততম সময়ের মধ্যে পদত্যাগ না করলে দল থেকে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়। তারেক রহমানের নির্দেশের পর তিনি পদত্যাগ করেন।

‘অস্বীকৃতির সংস্কৃতি’ ভেঙে নিজ দলে শুদ্ধি অভিযান

বাংলাদেশের সংসদীয় গণতন্ত্রের ইতিহাসে এটি এক বিরল ঘটনা। অতীতে দেখা গেছে, সরকারি দলের সংসদ সদস্য বা প্রভাবশালী নেতাদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও কোনো দলই কঠোর ব্যবস্থা নিতে পারেনি। ফেনীর জয়নাল হাজারী কিংবা টেকনাফের আব্দুর রহমান বদির মতো আলোচিত ব্যক্তিরা এমপি হলেও রাজনৈতিক স্বার্থে তৎকালীন সরকারি দলগুলো ছিল নীরব। ফলে সাধারণ মানুষের মাঝে ধারণা তৈরি হয়েছিল—ক্ষমতায় থাকলে অপরাধ করে পার পাওয়া যায়।

তবে দীর্ঘদিন পর দেশে ফিরে গত বছরের ২৫ ডিসেম্বর রাজনীতির এই অনৈতিক ধারা পরিবর্তনের ঘোষণা দিয়েছিলেন তারেক রহমান। তিনি স্পষ্ট করে বলেছিলেন, “দুর্নীতিবাজ, চাঁদাবাজ এবং সন্ত্রাসীদের কোনো দলীয় পরিচয় নেই; তাদের একটাই পরিচয়—তারা অপরাধী।”

ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টিকে পদত্যাগের নির্দেশ দিয়ে তিনি প্রমাণ করলেন, তাঁর ঘোষিত ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি কেবল মুখের কথা ছিল না।

জিরো টলারেন্স নীতির ধারাবাহিকতা

দলীয় শৃঙ্খলা বজায় রাখতে তারেক রহমানের কঠোর অবস্থান এটিই প্রথম নয়। ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই তিনি বিএনপিকে একটি পরিচ্ছন্ন রাজনৈতিক দল হিসেবে গড়ে তুলতে উদ্যোগী হন।

  • ২০১৮ পরবর্তী অবস্থান: আওয়ামী লীগ সরকারের অধীনে নির্বাচনে না যাওয়ার দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে স্থানীয় নির্বাচনে অংশ নেওয়া হেভিওয়েট নেতাদের আজীবনের জন্য বহিষ্কার করা হয়।

  • বিপথগামীদের বিরুদ্ধে কঠোরতা: ২০২৪-এর রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর কিছু নেতাকর্মী চাঁদাবাজি বা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়ালে তাঁদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়। জানা যায়, গত দুই বছরে বিভিন্ন অপরাধের অভিযোগে বিএনপির সহস্রাধিক নেতাকর্মীকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

রাজনৈতিক অঙ্গনে ইতিবাচক প্রভাব

একজন সংসদ সদস্যকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়ার এই সিদ্ধান্ত বাংলাদেশের রাজনীতিতে এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, শাসক দলের পক্ষ থেকে নিজ দলের প্রতিনিধির বিরুদ্ধে এমন তাৎক্ষণিক শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ অন্য দলগুলোকেও নিজদের শৃঙ্খলা ফেরাতে উৎসাহিত করবে।

একইসঙ্গে তা অপরাজনীতি ও অপরাধের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের জন্য একটি স্পষ্ট ও শক্তিশালী সতর্কবার্তা হিসেবে কাজ করবে।


সংবাদটি শেয়ার করুন....



আমাদের ফেসবুক পেজ