
বদলে যাওয়া বৈশ্বিক অপরাধের ধরন এবং ডিজিটাল যুগের নিরাপত্তা ঝুঁকি মোকাবিলায় পুলিশের দুই গুরুত্বপূর্ণ উগ্রবাদবিরোধী বিশেষায়িত ইউনিট—অ্যান্টি টেররিজম ইউনিট (ATU) এবং কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (CTTC)-এর নাম পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সংস্থা দুটিকে পুনর্গঠিত করে নতুন নাম দেওয়া হচ্ছে ‘স্পেশাল সিকিউরিটি ইউনিট’ (SSU)।
ইতোমধ্যে পুলিশ সদর দফতর থেকে এ সংক্রান্ত একটি প্রস্তাব সরকারের নীতি-নির্ধারক পর্যায় ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে, যা বর্তমানে বিবেচনাধীন রয়েছে।
পুলিশ সদর দফতর সূত্র জানায়, আইজিপির পক্ষে অতিরিক্ত উপমহাপরিদর্শক (অতিরিক্ত ডিআইজি) পদমর্যাদার একজন কর্মকর্তা এ সংক্রান্ত প্রস্তাবে স্বাক্ষর করেন। প্রস্তাবের আলোকেই মূলত নিম্নলিখিত পরিবর্তনগুলো আনা হচ্ছে:
এটিইউ (ATU): সারা দেশে সক্রিয় এই ইউনিটটির নতুন নাম হবে ‘স্পেশাল সিকিউরিটি ইউনিট’ (SSU)।
সিটিটিসি (CTTC): ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) আওতাধীন এই ইউনিটটির নাম হবে ‘স্পেশাল সিকিউরিটি ইউনিট-ডিএমপি’ (SSU-DMP)।
পুলিশ সদর দফতরের (মিডিয়া) কর্মকর্তা এএইচএম শাহাদাত হোসেন জানান, প্রযুক্তি ও অপরাধের ধরণে আসা পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে ইউনিটগুলোর কার্যকারিতা আরও গতিশীল করতেই এই সাংগঠনিক পুনর্গঠন। তবে নাম পরিবর্তন হলেও তাদের মূল নিরাপত্তাসংক্রান্ত দায়িত্ব অপরিবর্তিত থাকবে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে পুলিশ সদর দফতরের অতিরিক্ত আইজিপি খোন্দকার রফিকুল ইসলাম বলেন, “এমন একটি সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে এবং মন্ত্রণালয় পর্যায়ে বৈঠকও অনুষ্ঠিত হয়েছে। তবে বিষয়টি এখনো চূড়ান্ত অনুমোদন প্রক্রিয়ার মধ্যে রয়েছে।”
পুলিশের প্রস্তাবে বলা হয়, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI), ইন্টারনেটের ব্যাপক বিস্তার এবং দ্রুত তথ্যপ্রবাহের কারণে নিরাপত্তার ঝুঁকি ও ধরন আগের চেয়ে জটিল হয়ে গেছে। উগ্রবাদী গোষ্ঠীগুলো এখন তরুণদের গোপন ‘স্লিপার সেল’-এ যুক্ত করতে অনলাইন প্ল্যাটফর্ম, সাইবার স্পেস এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে ব্যবহার করছে।
এসব নতুন প্রযুক্তিগত হুমকি মোকাবিলায় সংস্থাটির পরিধি শুধু জঙ্গিবাদ দমনে সীমাবদ্ধ না রেখে জাতীয় নিরাপত্তা, অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতা ও জননিরাপত্তা রক্ষার কাজে বিস্তৃত করা হবে।
এছাড়া ‘স্পেশাল সিকিউরিটি ইউনিট’ নামটি আন্তর্জাতিকভাবে সমাদৃত হওয়ায় ইন্টারপোল ও অন্যান্য বিদেশি আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সঙ্গে তথ্য আদান-প্রদান এবং সরাসরি সহযোগিতা পাওয়া আরও সহজ হবে।
২০১৬ সালে ঢাকার গুলশানে হোলি আর্টিজান বেকারিতে নজিরবিহীন জঙ্গি হামলার পর একটি পূর্ণাঙ্গ ও বিশেষায়িত অ্যান্টি-টেররিজম ইউনিট গঠনের প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়। এর ধারাবাহিকতায় ২০১৭ সালের ৭ ডিসেম্বর আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করে এটিইউ। প্রতিষ্ঠার পর থেকে সংস্থাটি সারা দেশে বিশেষায়িত সন্ত্রাসবিরোধী ও কাউন্টার-টেররিজম বাহিনী হিসেবে কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে।