
বিএনপির সাথে পরিকল্পিতভাবে চাঁদাবাজির একটি ট্যাগিং যুক্ত করার রাজনৈতিক চেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ করেছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। তবে যেকোনো ধরনের অপরাধ ও অভিযোগের বিরুদ্ধে সরকার প্রস্তুত রয়েছে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।
মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
চাঁদাবাজির সাথে দলের নাম জড়ানো প্রসঙ্গে ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, “বিএনপির সাথে চাঁদাবাজির এক ধরনের ট্যাগিংয়ের চেষ্টা আসলে রয়েছে। এটি রাজনীতিরই অংশ। অন্তর্বর্তী সরকারের সময় থেকেই এই ধরনের ন্যারেটিভ তৈরির চেষ্টা আমরা দেখে আসছি।”
তিনি আরও যুক্ত করেন, “সরকারের মূল কাজ রাজনৈতিক ন্যারেটিভ তৈরি করা নয়, বরং অপরাধীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া। চাঁদাবাজির সাথে কারা জড়িত এবং তাদের পেছনে কোনো রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা আছে কি না—তার সব তথ্যই সরকারের কাছে রয়েছে। সময় অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এনসিপির চাঁদাবাজিবিরোধী কর্মসূচির বিষয়ে তথ্য উপদেষ্টা মন্তব্য করেন, বিষয়টিকে তাঁর কাছে কিছুটা ‘সার্কাজম’ মনে হলেও হিংসাত্মক বা সহিংস কর্মসূচির চেয়ে এ ধরনের রাজপথের কর্মসূচিকে সরকার স্বাগত জানায়।
দেশের বর্তমান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলতে গিয়ে ডা. জাহেদ উর রহমান স্বীকার করেন যে, মানুষের মনে কিছু উদ্বেগ বা নেতিবাচক ধারণা থাকতে পারে। তবে বাংলাদেশ ইতোমধ্যে পূর্বের ‘অ্যানার্কি’ (নৈরাজ্যজনক) অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসতে সক্ষম হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির কিছু ক্ষেত্রে অবনতি হলেও বেশ কিছু অপরাধ কমেছে এবং কোথাও কোনো দায়িত্বে গাফিলতি হলে সাথে সাথেই ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারতে অবস্থান এবং তাঁকে ফেরত আনার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক বক্তব্য নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাব দেন তথ্য উপদেষ্টা।
তিনি স্পষ্ট জানান, শেখ হাসিনাকে দেশে ফেরানোর বিষয়টি সম্পূর্ণভাবে বাংলাদেশ ও ভারতের দ্বিপক্ষীয় ইস্যু। এতে অন্য কোনো তৃতীয় দেশের সম্পৃক্ততার প্রয়োজন নেই বলেই মনে করে বাংলাদেশ।
শেখ হাসিনাকে ‘দণ্ডপ্রাপ্ত’ ও মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্ত উল্লেখ করে ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, “তিনি ভারতে রয়েছেন এবং আমরা তাঁকে ফেরত চাইছি। ভারতকে অবশ্যই তাঁকে হস্তান্তর করতে হবে। এ বিষয়ে ভারতের সাথে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে এবং ভারতে বাংলাদেশের যে অস্বস্তির জায়গাগুলো রয়েছে, তা ইতোমধ্যেই ভারতীয় হাইকমিশনারের কাছে তুলে ধরা হয়েছে।”