রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬, ১১:৩৫ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
বরিশালের চৌমাথায় মহাসড়ক-ফুটপাত দখলমুক্ত করতে বিসিসির অভিযান বিশ্ববাজারে তেলের দাপট: ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০১ ডলার ছাড়াল বিলুপ্ত হচ্ছে পশ্চিমবঙ্গ মাদরাসা সার্ভিস কমিশন, শিক্ষক নিয়োগ যাবে এসএসসি-র অধীনে কক্সবাজারে ইজিবাইকের চাকায় ওড়না পেঁচিয়ে প্রাণ গেল তরুণী পর্যটকের ‘একটা ডিম ১৫ টাকা’—কোটি নিম্নবিত্তের কাছে আজ এক আতঙ্কের নাম: নাহিদ ইসলাম স্কোয়াড নিয়ে অসন্তোষ: পর্তুগাল ক্যাম্প ছেড়ে মাদ্রিদে রোনালদো, পিছু নিলেন কিট ম্যানেজারও! এলডিসি উত্তরণের পরও ৯২% পণ্যে শুল্কমুক্ত সুবিধা দেবে যুক্তরাজ্য: ব্রিটিশ হাইকমিশনার ২৩ নারীর সঙ্গে ‘নকল মেসির’ সম্পর্কের গল্প কি সত্যি বিএনপির সাথে চাঁদাবাজির ট্যাগিংয়ের চেষ্টা চলছে: তথ্য উপদেষ্টা অস্ট্রেলিয়া ও যুক্তরাষ্ট্র সফরে সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান

বিলুপ্ত হচ্ছে পশ্চিমবঙ্গ মাদরাসা সার্ভিস কমিশন, শিক্ষক নিয়োগ যাবে এসএসসি-র অধীনে

রিপোর্টার :

সংবাদটি শেয়ার করুন....

পশ্চিমবঙ্গের মাদরাসা শিক্ষা ব্যবস্থায় বড় ধরনের কাঠামোগত পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজ্য সরকার। বিলুপ্ত করা হচ্ছে ‘পশ্চিমবঙ্গ মাদরাসা সার্ভিস কমিশন’ (এমএসসি)। এর বদলে মাদরাসার শিক্ষক নিয়োগের পুরো দায়িত্ব তুলে দেওয়া হচ্ছে ‘পশ্চিমবঙ্গ স্কুল সার্ভিস কমিশন’ (ডব্লিউবিএসএসসি)-র হাতে।

মঙ্গলবার রাতে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এ সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে বলেন, “আমরা মাদরাসা সার্ভিস কমিশন বিলুপ্ত করছি। এটি এখন থেকে স্কুল সার্ভিস কমিশনের সঙ্গে যুক্ত হবে।”

আইনি প্রক্রিয়া ও বিধানসভার সবুজ সংকেত

নবান্নের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানান, রাজ্য মন্ত্রিসভা ইতোমধ্যে এই প্রস্তাবে চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে। তবে এটি কার্যকর করতে রাজ্য বিধানসভায় দুটি পৃথক বিল পেশ করা হবে:

১. মাদরাসা সার্ভিস কমিশন আইন বাতিল সংক্রান্ত বিল। ২. স্কুল সার্ভিস কমিশন আইনে প্রয়োজনীয় সংশোধনী আনার বিল।

বিধানসভায় বিল দুটি পাস হওয়ার পর তা চূড়ান্ত সম্মতির জন্য রাজ্যপালের কাছে পাঠানো হবে এবং গেজেট বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে নতুন আইন কার্যকর হবে।

চাকরিপ্রার্থীদের সুবিধা ও ২০০৮ সালের আইন

২০০৭ সালে পশ্চিমবঙ্গের ৬১৪টি মাদরাসাকে সংখ্যালঘু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মর্যাদা দেওয়ার পর, ২০০৮ সালের ২২ অক্টোবর একটি বিশেষ আইনের অধীনে গঠন করা হয়েছিল ‘মাদরাসা সার্ভিস কমিশন’।

নতুন ব্যবস্থার ফলে চাকরিপ্রার্থীদের জন্য এখন থেকে স্কুল ও মাদরাসার জন্য আলাদা পরীক্ষার জটিলতা থাকবে না। একই নিয়োগ কাঠামোর আওতায় আবেদন ও পরীক্ষা দেওয়া যাবে, যা প্রার্থী এবং প্রশাসন—উভয়ের জন্যই খরচ ও সময় বাঁচাবে। তবে যোগ্যতার শর্তাবলী ও নিয়োগ পরীক্ষার বিস্তারিত নিয়মাবলী আইন সংশোধনের পর আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হবে।

‘এক রাজ্য, এক শিক্ষা’ নীতি ও বেআইনি মাদরাসার বিরুদ্ধে পদক্ষেপ

সম্প্রতি কলকাতার আলিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণও সংখ্যালঘুবিষয়ক ও মাদরাসা শিক্ষা দপ্তর থেকে সরিয়ে উচ্চশিক্ষা দপ্তরের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, জাতীয় শিক্ষা নীতি (NEP) অনুসরণ করে রাজ্য সরকারের ‘এক রাজ্য, এক শিক্ষা’ নীতি বাস্তবায়নের অংশ হিসেবেই এই সিদ্ধান্তগুলো নেওয়া হচ্ছে।

অন্যদিকে, রাজ্যজুড়ে পরিচালিত এক সাম্প্রতিক জরিপে উঠে এসেছে—রাজ্যের ২ হাজার ১৩২টি মাদরাসার সরকারি অনুমোদন থাকলেও ২ হাজার ৩৯৬টি মাদরাসা কোনো বোর্ডের অনুমোদন ছাড়াই পরিচালিত হচ্ছিল।

কঠোর পদক্ষেপ হিসেবে রাজ্য সরকার ইতোমধ্যে ২৫২টি অনুমোদনহীন মাদরাসা বন্ধের নির্দেশ দিয়েছে এবং আরও প্রায় ১০০টি মাদরাসাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ (Show Cause Notice) জারি করা হয়েছে।


সংবাদটি শেয়ার করুন....



আমাদের ফেসবুক পেজ