
জাতীয় দলের একাদশে জায়গা না পাওয়া এবং কোচিং স্টাফের সাথে সম্পর্কের টানাপোড়েন থেকে ক্ষুব্ধ হয়ে পর্তুগালের ক্যাম্প ছেড়েছেন অধিনায়ক ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। ডেনমার্ক থেকে সোজা স্পেনের মাদ্রিদে চলে গেছেন এই পর্তুগিজ সুপারস্টার। ঘটনাটি শুধু রোনালদোর মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেনি, তাঁকে অনুসরণ করে পর্তুগালের এক শীর্ষ কিট ম্যানেজারকেও অবিলম্বে ব্যাগ গুছিয়ে ক্যাম্প ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
গত বুধবার কোপেনহেগেনে পর্তুগাল জাতীয় দলের ক্যাম্প থেকে রোনালদোর এই আকস্মিক প্রস্থান নিয়ে আন্তর্জাতিক ফুটবল অঙ্গনে তীব্র চর্চা শুরু হয়েছে।
জানা গেছে, প্রথম ম্যাচে পুরো সময় বেঞ্চে বসে কাটানোর পর পরবর্তী ম্যাচেও শুরুর একাদশে না থাকার সম্ভাবনা জোরালো হয়ে ওঠে। এ নিয়ে পর্তুগালের প্রধান কোচ জর্জে জেসুস এবং পর্তুগাল ফুটবল ফেডারেশনের (FPF) সভাপতির সাথে এক উত্তপ্ত বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকের পরপরই চরম ক্ষুব্ধ অবস্থায় হোটেল ছেড়ে বের হয়ে যান পাঁচবারের ব্যালন ডি’অর জয়ী এই তারকা, যা পরে তাঁর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বার্তার মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া যায়।
যদিও কোচ জর্জে জেসুস প্রকাশ্যে কোনো কোন্দলের কথা স্বীকার করতে চাননি, তবে রোনালদোর এমন প্রতিক্রিয়া ও প্রস্থান দলে তৈরি হওয়া স্পষ্ট বিভেদেরই ইঙ্গিত দেয়।
পর্তুগালের জনপ্রিয় ক্রীড়া সংবাদমাধ্যম ‘রেকর্ড’ (Record) জানিয়েছে, রোনালদো ক্যাম্প ছেড়ে বের হয়ে যাওয়ার পর পর্তুগাল ফুটবল দলের ব্যাকরুম স্টাফের (কোচিং প্যানেলের সদস্য) এক কর্মকর্তা চরম বিপাকে পড়েন।
আলোচিত এই ব্যক্তিটি হলেন পর্তুগাল দলের দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞ কিট ও সরঞ্জাম ব্যবস্থাপক অ্যান্টোনিও কস্তা। রোনালদো ক্যাম্প ত্যাগ করার পরপরই তাঁকে অবিলম্বে ব্যাগ গুছিয়ে রোনালদোর পিছু নিয়ে ক্যাম্প ছাড়ার নির্দেশনা দেওয়া হয় এবং তিনিও রোনালদোর সাথেই ডেনমার্ক ছাড়েন।
সব মিলিয়ে ডেনমার্কের মাটিতে পর্তুগাল দলের এই বিতর্কিত ঘটনা আগামী ম্যাচগুলোতে দলের পারফরম্যান্স এবং রোনালদোর আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের ওপর কেমন প্রভাব ফেলে, এখন সেটাই দেখার বিষয়।